পার্বত্য ভূমি কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে কি?

0
1

CHT Land Commision॥ মন্তব্য প্রতিবেদন ॥
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ৯ আগস্ট কমিশন আইনের কতিপয় বিতর্কীত ধারা সংশোধন করে সরকারী অধ্যাদেশ জারীর পর এটাই কমিশনের প্রথম সভা।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক, আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা ও চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় কমিশনের ভবিষ্যত কার্যক্রম বিষয়ে ইতিবাচক ও আশাবাদী মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।

২০০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠিত হলেও আইনে কমিশন চেয়ারম্যানের হাতে সর্বময় ক্ষমতা দেয়ার কারণে তা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রবল বিরোধীতার সম্মুখীন হয়। ব্যাপক আন্দোলনের পর সরকার অবশেষে আইনটির অগণতান্ত্রিক ও বিতর্কীত ধারা সংশোধন করে। সরকারের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক তাতে সন্দেহ নেই। তবে তারপরও আইনটি পুরোপুরি গণতান্ত্রিক হয়ে না ওঠার কারণে সন্দেহ থেকে যায় আইনটির বর্তমান কাঠামোর মধ্যে থেকে কমিশন কতটুকু সাফল্য ও দক্ষতার সাথে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবে। অবশ্য যদি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকে, তাহলে আইনে যে দুর্বলতা রয়ে গেছে তা কাটিয়ে ওঠা বা অতিক্রম করা কঠিন হবে না।

পার্বত্য জনগণের প্রত্যাশা বর্তমান ভূমি কমিশন যেন সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের মতো বিতর্কীত হয়ে না যায়। খাদেমূল সাহেব সে সময় খালেদা জিয়ার আমলে পাস করা বিতর্কীত ভূমি কমিশন আইনটি বগলদাবা করে একটি বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নেমেছিলেন। তিন জেলায় তিনি সরকারী মন্ত্রীর মতো ঘুরে ঘরে মিছিল সমাবেশ করে জনগণের হাসির খোরাক যুগিয়েছিলেন। জনগণের সমর্থন, আস্থা ও সহানুভূতি অর্জন করতে না পারলে যে ভূমি সমস্যার মতো একটি জটিল সমস্যার সমাধান করা যায় না তা তিনি বুঝতে অক্ষম ছিলেন। ফলে তাকে খলনায়কের মতো শেষ বেলায় বিদায় নিতে হয়েছে। বর্তমান কমিশনও যদি খাদেমূলের মতো নিরপেক্ষতা হারায়, কোন একটি বিশেষ মহলের ক্রীড়নক হয়ে যায় বা ওই মহলটির কোন গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তাহলে তার পরিণতিও একই হতে বাধ্য। এটা বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার যে, জনগণের আস্থাই কমিশনের সাফল্যের চাবিকাঠি। কাজেই বিতর্কীত কাজের মাধ্যমে যাতে কমিশন জনগণের আস্থা না হারায় আশাকরি সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

অপরদিকে কমিশন যদি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করে তাহলে আপামর জনগণের সমর্থন লাভ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাদের কাজে হয়তো কেউ কেউ বিরোধীতা করতে পারে, তবে সৌভাগ্যক্রমে তাদের সংখ্যা অল্প, এবং অন্য কারোর প্ররোচনা না পেলে তারা বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। অন্য কেউ না জানলেও কমিশনের চেয়ারম্যান নিশ্চয়ই জানবেন যে, বিচারের রায় বাদি বিবাদী উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারে না, একজন বিচারকের কাজও তা নয়। তার কাজ হলো ন্যায়বিচার করা, উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করা নয়। আমরাও চাই ভূমি কমিশন ন্যায়বিচার করুক। এর চেয়ে বেশী চাওয়া আমাদের নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উপর ফৌজি শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ও স্বৈরাচারী সেনাশাসক জেনারেল এরশাদের শাসনামলে যে ঐতিহাসিক অবিচার করা হয়েছে তা redeem করা হোক। কমিশন যদি এতে ব্যর্থ হয় তাহলে ইতিহাস তাকে কোনদিন ক্ষমা করবে না।

আমরা কমিশনের কাজের ওপর সতর্ক পর্যবেক্ষণে থাকলাম।

_____________

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.