বর্মা সম্পর্কে তার স্ত্রী ও স্বজনরা (১)

0
1

জে চাকমা

নব্য মুখোশ বাহিনীর প্রধান সর্দার তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা এখন সেনাবাহিনীর একজন জঘন্য স্পাই। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীর চরম ধ্বংসাত্মক জুম্ম-বিরোধী কর্মসুচি বাস্তবায়নের জন্য সে এখন খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে এবং জুম্ম জনগণের আন্দোলনে এক ঘৃন্য শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তার স্বজনরা তার সম্পর্কে কী ভাবছেন সে সম্পর্কে জানতে চার জন জনপ্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর তারা বর্মার কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের সাথে বিভিন্ন সময় কথা বলেন। তাদের সেই কথোপকথনের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যা দুই পর্বে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রথম পর্বে থাকছে তার স্ত্রী, ছেলে ও এক ভাইয়ের মন্তব্য। নিরাপত্তাজনিত কারণে জনপ্রতিনিধিদের নাম গোপন রাখা হলো।

# নব্য মুখোশ বাহিনীর সর্দার বর্মা

বর্মার স্ত্রীর নাম অপরাজিতা চাকমা, বয়স ৩৮ বছর। ১৯৯৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। বর্মার জাতি-বিরোধী কর্মকা- সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাইলে দুই সন্তানের জননী অপরাজিতা চাকমা কান্না জড়িত কন্ঠে এক জনপ্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমার স্বামী এটা কী কাজ করছে? এক সময় যাদের সাথে সে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে এখন তারাই শত্রু। তাদের সাথে সে এখন যুদ্ধ করছে।’

বর্মার এ ধরনের কাজকে তিনি সমর্থন করেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘তার (বর্মার) এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ আমি স্ত্রী হয়েও মোটেই সমর্থন করতে পারিনা।’

নানিয়াচরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ বলে মন্তব্য করে তিনি এ অবস্থা থেকে নান্যাচরবাসির মুক্তি চান বলে জানান এবং বলেন বর্মা যদি আর্মিদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে পূর্বের মতো জনগণের পক্ষে আন্দোলন করেন তাহলে তিনি খুবই খুশী হবেন।

বর্মার এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ের নাম জবা চাকমা। সে এ বছর ঢাকায় লালমাটিয়া মহিলা কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। ছেলের নাম স্পীড চাকমা। সে খাগড়াছড়িতে ব্যাটালিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ছে। নানিয়াচরের এক জনপ্রতিনিধির সাথে আলাপে স্পীড চাকমা জানায় যে, সে তার বাবা বর্তমানে যা করছে তা মোটেই সমর্থন করতে পারে না।

সে বলেছে, ‘আমার বাবার কাজের কারণে আমার সহপাঠীদের কাছে আমাকে মাথা নীচু করে চলতে হয়। আত্মীয়-স্বজন ও লোকজনের কাছে আমাদের মুখ ছোট হয়ে যায়।’

তার বাবা যা করছে তা যে জাতি ও জনগণের স্বার্থের বিরোধী তা স্পীড ভালোভাবেই জানে। এ কারণে সে সব সময় হীনমন্যতায় ভোগে। অনেক সময় পড়ার টেবিলে বসলে সে এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে। তার বাবা যদি এসব কাজ বন্ধ করে দেয় তাহলে সে অত্যন্ত খুশী হবে বলে জানায়।

তপন জ্যোতি চাকমা বর্মার আপন ছোট ভাই বিমল জ্যোতি চাকমা (বিপ্লব)। তিনি রাঙামাটিতে একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। বর্মা সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাইলে এক জনপ্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ‘বিনা কারণে নিরপরাধ লোকজন মারা যাচ্ছে এটা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। ভাই হয়ে আমি বর্মার এধরনের কাজকে সমর্থন করতে পারিনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মোট পাঁচ ভাই। বর্মার নিষ্ঠুর ও জঘন্য কাজের কারণে আমরা আমাদের ভাইয়ের তালিকা থেকে তাকে একেবারে বাদ দিয়েছি। আমরা আর তাকে ভাই হিসেবে পরিচয় দিই না।’
—————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.