বাঘাইছড়িতে নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন, এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ

0
0

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ডাঙ্গাছড়া নামক স্থানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় বাঘাইহাট জোনের অধীন একটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১০ আগস্ট) বাঘাইহাট জোন কমাণ্ডার মোঃ গোলাম আযম ক্যাম্প পরিদর্শনে গেছেন। আর চতুর্পার্শ্বে বেড়া দেয়ার জন্য গতকাল সেখানে কাটাতার নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট থেকে ক্যাম্প স্থাপনের কার্য্যক্রম শুরু করা হয়। এর কয়েকদিন আগে দুইটিলা ক্যাম্পের কমান্ডার মোঃ আরিফ ওই এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন।  

যে স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের কাজ চলছে সে জায়গাটির মালিকের নাম অংগরাজ চাকমা, পিতা- নলিনী কার্বারী। উক্ত জায়গায় তিনি আগর ও সেগুন বাগান সৃজন করেছেন। সেনারা তার বাগানের ১২টি আগর ও ১০টি সেগুন গাছ কেটে দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

জায়গার মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাগানের গাছ কেটে জোরপূর্বকভাবে ক্যাম্প স্থাপন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি বলেন, আমরা এলাকার লোকজন ভালোভাবে রয়েছি। এখানে ক্যাম্পের কোন প্রয়োজন নেই। ক্যাম্প স্থাপন করা হলে বিভিন্ন হয়রানির আশঙ্কা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঐ এলাকার কার্বারী [বিশেষ কারণে নাম প্রকাশ করা হলো না] প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আমাদের এলাকায় কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম নেই। কিন্তু কি উদ্দেশ্যে নতুন করে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি অনুসারে অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার না করে নতুন ক্যাম্প স্থাপন স্পষ্টতই আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। তিনি এলাকার জনগণ নানা হয়রানির শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কা করে নতুন ক্যাম্প স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

গ্রামের অপর এক মুরুব্বী ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রতিনিধিকে বলেন, সরকারের উচিত ছিল পার্বত্য চুক্তির ভিত্তিতে সকল অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়া, কিন্তু সেটা না করে উল্টো ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা বেদখল করে নতুন ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে দিন দিন জটিলতার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারের এমন কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং ক্যাম্প স্থাপন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান।
——————–
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.