বান্দরবানে সেনা সদস্য কর্তৃক ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার নানা চেষ্টা চলছে

0
348

বান্দরবান প্রতিনিধি ।। বান্দরবানের রাজবিলা ইউনিয়নে সেনা সদস্য কর্তৃক ২৩ বছর বয়সী এক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা চেষ্টা চলছে। এজন্য স্থানীয় গ্রামবাসীদের নানা হয়রানি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত সোমবার (১৮ জানুয়ারি ২০২১) দুপুরে রাজবিলা ইউনিয়নের তাইনখালি পাড়ায় এ ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে।

উক্ত ঘটনার পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে স্থানীয় এলাকার নারীরা সেনাদের অস্থায়ী ক্যাম্প তাইনখালি বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেরাও করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং দোষী সেনা সদস্যের শাস্তির দাবি করেন।

পরে এ ঘটনা নিয়ে সেদিন জনৈক সেনা মেজরের নেতৃত্বে স্থানীয় থানার ওসি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গ্রামবাসীরাসহ ভুক্তভোগীকে নিয়ে তাইনখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি সালিশ বৈঠক বসে। জানা গেছে, উক্ত বৈঠকে মেজর ভুক্তভোগী নারীকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমাকে যে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ আছ’?। ওই নারী তখন ভাঙা বাংলায় বলেন, ‌‘বাড়িতে কেবল আমি একা ছিলাম। আর যখন লোকজন আসে তখন সে দ্রুত পালিয়ে যান’। এরপর জনৈক মেজর নারীর অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বিচার এখানেই শেষ বলে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে একদল সেনা সদস্য তাইনখালি পাড়ায় গিয়ে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী চাইথোয়াই প্রু মারমা (২৫), দেবর রেছে অং মারমা (১৯) ও স্থানীয় ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার মহিন্যু মারমার ছেলে পুহ্লছে মারমা (১৫)-কে তাদের ধরে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সেনারা মোবাইল ক্যামেরায় তাদের ছবিও তুলে রাখে।

পরে খবর পেয়ে এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে উক্ত তিন জনকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উল্টো গ্রামবাসীদের উপর লাঠিচার্জ করে। এতে প্রায় ১০-১৫ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গ্রামবাসীরা উক্ত তিন ব্যক্তিকে সেনা সদস্যদের হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

এদিকে, আজ বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকালে গ্রামবাসীরা উক্ত ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনার বিচার চাইতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে গেলে সেখানে ৪০ জন গ্রামবাসীকে অবরোধ করে রাখার খবর পাওয়া যায়। এ সময় গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে আরও একদল গ্রামবাসী সেখানে (জেলা পরিষদ কার্যালয়ে) যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সেখান কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা বা সর্বশেষ কি ঘটেছে তা জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ধর্ষণ চেষ্টাকারী সেনা সদস্যকে রক্ষা করতেই এমন অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েকদিন ধরে রাজবিলা ইউনিয়নের তাইনখালি বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প বানিয়ে ৩০ জনের একটি সেনাদল অবস্থান করে আসছে। সেখান থেকে গত সোমবার দুপুরে মিজান নামে এক সেনা সদস্য সাদা পোশাকে তাইনখালি পাড়ার একটি বাড়িতে গিয়ে এক সন্তানের জননী ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

উক্ত ঘটনায় স্থানীয় নারীদের প্রতিবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা, ক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে।

 


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.