ইউপিডিএফ নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা’র মুক্তির দাবিতে

বৃহত্তর খবংপুড়িয়া এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ

0
0

huamnchain27-11-2016-1

খাগড়াছড়ি : ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা ও তার সহকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আজ রবিবার (২৭ নভেম্বর, ২০১৬) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বৃহত্তর খবংপুড়িয়া(হবংপুজ্জ্যা) এলাকার জনগণ। সকাল ১০.৩০ থেকে ১১.০০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত উক্ত মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ খবংপুড়িয়া গ্রামের প্রায় শতাধিক জনতা অংশগ্রহণ করেন। মানবনন্ধনে আগত নারী-পুরুষগণ এ সময় ’সমাজসেবক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা’র মুক্তি চাই, বিনা পরোয়ানায় ধরপাকড় বন্ধ কর, সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার নিশ্চিত কর, মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার দিতে হবে, উজ্জ্বলস্মৃতি চাকমাসহ সহকর্মীদের উপর দায়েরকৃত মিথ্যামামলা প্রত্যাহার কর’ ইত্যাদি শ্লোগান সম্বলিত হাতে লেখা পোস্টার প্রদর্শন করেন।

উক্ত মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে এসআই মাসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মানববন্ধনে আগতদের কাছে কর্মসূচি করার অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা, মানববন্ধনে কোনো কিছু হলে বা হামলার ঘটনা ঘটলে পুলিশ দায় নেবে না ইত্যাদি বক্তব্য তুলে ধরে। পুলিশের অতিরিক্ত অনুরোধ উপরোধে মানববন্ধন আধঘন্টা চলার পরে সমাপ্ত ঘোষনা করা হয়।

মানববন্ধন শেষ করার পরে খবংপুড়িয়া এলাকাবাসীর পক্ষে একটি প্রতিনিধি দল খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বৃহত্তর খবংপুড়িয়া সমাজ উন্নয়ন সমিতি’র সভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য পুরুষোত্তম চাকমা, স্বনির্ভর বাজারের বাজার চৌধুরী যশোবন্ত দেওয়ান, ঠিকাদান সমিতি’র সভাপতি ইন্দু বিকাশ চাকমা। স্মারকলিপিতে সমাজকর্মী-চাকুরিজীবি- কৃষক-গৃহিণী-ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রায় ২৩৬ জন স্বাক্ষর প্রদান করেন।

humanchain-27-11-2016-3

স্মারকলিপিতে ইউপিডিএফ নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমাকে গ্রেপ্তার ও তাকে কারারূদ্ধ করার ঘটনাকে সম্পূর্ণ বেআইনী ও সংবিধানের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, গ্রেফতারের পূর্বে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল না এবং গ্রেফতারের সময়ও তার কাছ থেকে বেআইনী কোন কিছু পাওয়া যায় নি। তিনি কোন ধরনের অপরাধের সাথেও জড়িত ছিলেন না কিংবা অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনার সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়নি। গ্রেফতারকারীরাও এমন কোন দাবি করতে পারেনি। অপরদিকে যে সংগঠনের বা পার্টির সাথে তিনি যুক্ত সেই ইউপিডিএফ-ও কোন নিষিদ্ধ বা বেআইনী সংগঠন নয়। সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সংগঠন করার অধিকার দেয়া হয়েছে। ৩০ নং অনুচ্ছেদে ‘আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না’ বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই ইউপিডিএফ নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমাকে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা সম্পূণ বেআইনী এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।

এছাড়া উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা ও তার সহকর্মীদের গ্রেপ্তারের পরে তাদের প্রতি যে নির্দয়, অমানবিক ও অমর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও তা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়।

স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে এখানকার অধিবাসীদের দেখভাল করার দায়িত্ব আপনার রয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো আপনি এখানে প্রত্যেক নাগরিকের নায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন এবং তার সেই অধিকার ক্ষুন্ন করা হলে তার যথাযথ প্রতিকার করবেন।

স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিম্নোক্ত তিনদফা দাবিনামা পেশ করা হয়-
ক. উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা ও তার সহকর্মী সমর্পন চাকমা, রূপম চাকমা, বাবলু মারমা, রনি ত্রিপুরা ও সন্ধিপন চাকমাকে অবিলম্বে বিনাশর্তে মুক্তি দেয়া হোক;
খ. তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক; এবং
গ. প্রত্যেক নাগরিকের সংগঠন করার অধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং অন্যায় ধরপাকড়, নির্যাতন, হয়রানি বন্ধ করা হোক।
——————

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.