মাতৃভাষায় শিক্ষা দাবিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ক্লাশ বর্জন কর্মসূচি স্বত:স্ফুর্তভাবে পালিত

0
2

খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি প্রতিনিধি
সিএইচটিনিউজ.কম

সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিকার নিশ্চিত করা সহ শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আজ ২০ ফেব্রুয়ারী বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ডাকা ক্লাশ বর্জন কর্মসূচি স্বত:স্ফুর্তভাবে পালিত হয়েছে৷ খাগড়াছড়ি জেলা সদর সহ উপজেলা সমূহের অধিকাংশ স্কুল-কলেজে তেমন কোন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত হয়নি। রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্কুল-কলেজ সমুহতেও স্বত:স্ফুর্তভাবে ক্লাশ বর্জন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্‍কালীন উপমন্ত্রী এবং ১৬ সেপ্টেম্বর তত্‍কালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রীর কাছে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের অধিকারসহ ৫ দফা দাবি তুলে ধরার মধ্যে দিয়ে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সকল জাতিসত্তার নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু কোন সরকারই এ সকল দাবিনামা বাস্তবায়ন না করায় এই কাশ বর্জন কর্মসূচি পালন করা হয়।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট হাইস্কুল, ভাইবোনছড়া উচ্চ বিদ্যালয় সহ অধিকাংশ স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম এবং অনেক স্কুলে কোন ছাত্র-ছাত্রীই উপস্থিত হয়নি৷ এছাড়াদিঘীনালা উপজেলায় দিঘীনালা কলেজ, দিঘীনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাবুছড়া প্রাথমিক বিদালয়, বড়াদাম প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অনেক স্কুল; পানছড়ি উপজেলায় পানছড়ি ডিগ্রি কলেজ, লোগাং উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অধিকাংশ স্কুল; মহালছড়ি উপজেলায় মহালছড়ি কলেজ, সিঙ্গিনালা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মহালছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লেমুছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, মাইসছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, সিঙ্গিনালা সরকারি প্রাথমি বিদ্যালয় সহ অধিকাংশ স্কুল; মানিকছড়ি উপজেলার মানিকছড়ি কলেজ, মানিকছড়ি কলেজিয়েট স্কুল সহ পাহাড়ি অধু্যষিত সকল স্কুল; মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুইমারা উচ্চ বিদ্যালয়, বাইল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, বাইল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অনেক স্কুল; রামগড় উপজেলার কালাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ পাহাড়ি অধু্যষিত স্কুল এবং লীছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা কাশে অনুপস্থিত থেকে স্বত:স্ফুর্তভাবে কাশ বর্জন কর্মসূচি পালন করে।

রাঙামাটি : রাঙামাটি জেলার সদর উপজেলার বড় মহাপ্রুম উচ্চ বিদ্যালয়, সাপছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষি কলেজ, বড় মহাপ্রুম কিন্ডার গার্টেন স্কুল সহ অধিকাংশ স্কুল কলেজে কাশ বর্জন কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া কাউখালী উপজেলায় কাউখালী কলেজ, পোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, লেবারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ স্কুল; নান্যাচর উপজেলায় নান্যাচর কলেজ, নান্যাচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নান্যাচর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ উপজেলার অধিকাংশ স্কুল; জুরাছড়ি উপজেলায় জুরাছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি ভূবন জয় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দয়ামোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অধিকাংশ স্কুল; বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাচালং কলেজ সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীরা কাশে অনুপস্থিত থেকে স্বত:স্ফুর্তভাবে কাশ বর্জন কর্মসূচি পালন করে৷

আজ সকাল ১০টার সময় রাঙামাটি জেলার নান্যাচর উপজেলায় পিসিপির কাশ বর্জন কর্মসূচি সফল করার জন্য নান্যাচর কলেজে যাবার পথে নান্যাচর জোনের সেনারা পিসিপি নান্যাচর কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শুদ্ধ চাকমা, অর্থ সম্পাদক মিটন চাকমা ও নান্যাচর থানা শাখার সদস্য নরেন চাকমাকে বিনাকারণে গ্রেফতার করে৷ এছাড়া সুবলং থেকে নোয়াদাম জুনিয়র হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সুমন চাকমা (১৭) পিতা- বিমল চাকমা, বরুণাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র উজ্জ্বল চাকমা (১৪) পিতা- সাধন চাকমা ও কাট্টলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র শুভ চাকমা (১৭) পিতা- মহাবাহু চাকমাকে সেনাবহিনীআটক করে সুবলং ক্যাম্পে নিয়ে যায়৷ সুবলং ক্যাম্পের কমান্ডার লে. মাসুদ রানার নেতৃত্বে তাদেরকে আটক করা হয়।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমা স্বত:স্ফুর্তভাবে ক্লাশ বর্জন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত এ দাবি পূরণ হবে না ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম চলবে বলেতিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি অবিলম্বে সকল জাতিসত্তার নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা সহ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের উত্থাপিত ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। এবংমাতৃভাষায় শিার দাবিতে আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অংগ্য মারমা সেনাবাহিনী কর্তৃক নান্যাচর থেকে পিসিপির চার নেতা এবং সুবলং থেকেতিনজন স্কুল ছাত্রকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের উত্থাপিত ৫ দফা দাবিনামা হচ্ছে- ১. পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, ২. স্কুল- কলেজের পাঠ্যপুস্তকে জাতিসত্তার প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য বাদ দিতে হবে, ৩. পাহাড়ি জাতিসত্তার বীরত্ত্বব্যঞ্জক কাহিনী ও সঠিক সংগ্রামী রাজনৈতিক ইতিহাস স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে, ৪. বাংলাদেশের সকল জাতিসত্তার সংক্ষিপ্ত সঠিক তথ্য সম্বলিত পরিচিতিমূলক রচনা বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে, ৫. পার্বত্য কোটা বাতিল করে পাহাড়িদের বিশেষ কোটা চালু করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.