মানিকছড়িতে বিষ দিয়ে পাকাচ্ছে কাঁঠাল !

0
1
মানিকছড়ি প্রতিনিধি
সিএইচটিনিউজ.কম
 
পাহাড়ের সুস্বাদু কাঁঠালে এখন বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে অবাধে!  প্রভাবশালী পাইকাররা কাঁঠাল কিনে গুদামে স্তুপ করে রাতে দেদারসে বিষাক্ত কার্বাইড, ফরমালিন ও হরমন জাতীয় বায়েনিনপা, প্লানোফিক্স প্রয়োগ করছে। এতে করে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার পাহাড়গুলোতে কৃষকরা অবাধে কাঁঠালের বাগান সৃজন পূর্বক কোটি টাকা আয় রোজগার করে বেঁচে আছে। প্রতিবছর এ অঞ্চলের পাহাড়ে রসালো কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। পাহাড়ের মাটি উর্বর হওয়ার কারণেই প্রতিটি বাগানে প্রচুর ফলন হয়। এসব উৎপাদিত ফল অন্যান্য এলাকার চেয়ে সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় সমতল জেলাগুলোতে এর কদর অনেক বেশি।

এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রতিদিন উপজেলার হাতিমুড়া গচ্ছাবিল, বাটনাতলী, ডাইনছড়ি, মানিকছড়ি, তিনটহরীসহ প্রতিটি গ্রামের বাগানগুলোতে গিয়ে কাঁঠাল কিনে আনে। সারাদিন ক্রয় করা কাঁঠাল নির্দ্দিষ্ট গুদামে স্তুপ দিয়ে রাতের আঁধারে তাতে কার্বাইড, ফরমালিন ও হরমন জাতীয় বায়েনিনপা, প্লানোফিক্স ওষধ ঢুকানো হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। পাঞ্জারাম পাড়ার সফল বাগান মালিক আবদুস ছালাম এ প্রতিবেদকে জানান, যে কোন ব্যক্তি যদি মনোযোগ দিয়ে ফলজ বাগান করে তাহলে জীবনে তাঁর সংসারে অভাব থাকবে না।

বাটনাতলী ইউপি সদস্য অংগজাই মারমা বলেন, পাহাড়ে যে কোন ফলজ বাগানে লাভবান হওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে যেভাবে বাগান করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সে মোতাবেক তৃণমূল পর্যায়ে রাস্তাঘাট,কালর্ভাট না থাকা এবং নির্মিত ব্রীজ সংস্কারের অভাবে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত কারণে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
তাই তৃণমূলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন দরকার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক সচেতন ব্যক্তি জানান, শহরের আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যেতে ১শ ৫০ টাকা দিয়ে দু’টি কাঁঠাল কিনে নেই। পরদিন সকালেই কাঁঠালগুলো পেকে যায়। কিন্তু তাতে দেখা যায় কোষগুলো পরিপক্ষ নয়, তাতে স্বাদ নেই। এ যেন অবাক কান্ড! ফলে পাহাড়ের কাঁঠালে যে পরিমান স্বাদ থাকার কথা সে পরিমান তৃপ্তি পাওয়া যায় না। 
এ ব্যাপারে একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করলে গত মাসে পুলিশ দু’জনকে কাঁঠালসহ থানায় এনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা হারে জরিমান করে সাজা দেয়। বিষয়টি ছিল যেন লোক দেখানো ? কারণ এর পরও যেহেতু এসব বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ থামেনি তাতে প্রমানিত হয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কত শক্তিশালী? 
মানিকছড়ি থানার ওসি কেশব চক্রবর্তী জানান, অভিযোগ পেয়ে দু’জনকে থানায় এনে জরিমানা করে উপজেলা চেয়াম্যানের অনুরোধে ছেড়ে দিয়েছি। এসব ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হাঁট-বাজার ইজারা, টোল কেন্দ্র, ইউপি নামে ফান্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার নামে অবাধে মাত্রাতিরিক্ত হারে টাকা তোলা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পাইকার বলেন, ভাই বিপদে আছি, স্থানীয়ভাবে পদে পদে টাকা দেওয়ার পর ও সমতলের  শতাধিক স্পটে ফাঁড়ি থানার ডিউটিরত পুলিশকে গাড়ী প্রতি ১শ-২শ টাকা দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে ট্রাক থামিয়ে আইনের ফাঁক-ফোঁকড় খোঁজার নামে চরম হয়রানী করা হয়। কাঁঠাল পচনশীল ফল তাই কোন স্থানে যদি ২/৪ ঘন্টা গাড়ী দাঁড় করিয়ে রাখা হয় তাতেই ব্যবসার বারোটা। ফলে বাধ্য হয়েই সব অপকর্ম মেনে নিতে হয়। যার কারণে কৃষকদেরকে ন্যায মূল্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে দেখা যায় প্রতিটি কাঁঠালে গড়ে ২৫-৩০ টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়ে। 
বর্তমানে বাজারে ৪০-৭০ টাকা এবং ক্ষেত্র বিশেষে ৮০-৯০ টাকা পর্যন্ত কাঁঠাল বিক্রি হয়। এসব কাঁঠাল নোয়াখালী, চাটখীল, চাঁদপুর, ফেনী, কুমিল্লা, সিলেট, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বি.বাড়ীয়াসহ বিভিন্নস্থানে নিয়ে বিক্রি করা হয়। মানিকছড়ি উপজেলার উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো.নেকবর আলী জানান, ফলে কার্বাইড, ফরমালিন ও হরমোন জাতীয় বায়েনিনপা, প্লানোফিক্স যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে মানুষের কিডনী নষ্টসহ মারাক্ত ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কীটনাশক ব্যবসায়ী জানান, কতিপয় ব্যবসায়ীরা এসব বিষাক্ত ওষধ এনে অবাধে বিক্রি করলেও কেউ তাতে বাধা দিচ্ছে না।মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এম.এ.জব্বার এ প্রসঙ্গে বলেন, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলে এক ধরনের রসায়নিয়ক ওষধ ব্যবহারের বিষয়টি শুনেছি । যার কারণে থানা পুলিশকে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজীদা শরমিন‘র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ফলে বিষাক্ত ওষধ ব্যবহার করতে ব্যবসায়ীদের সর্তক করা হয়েছে, তারপরও যদি কেউ এ ধরনের কাজ অব্যাহত রাখে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.