মানিকছড়িতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে সেটলাররা, দু’জনকে মারধর

0
0

সিএইচটি নিউজ ডটকম
Manikchariমানিকছড়ি : খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার লাফাইডং পাড়ায় মো: মতিন (৬০) নামে এক বাঙালিকে হত্যার অভিযোগ করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে সেটলাররা। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পাহাড়িরা ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কিছুক্ষণ আগে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সেটলাররা লাফাইডং পাড়ার বাসিন্দা রুইপ্রু চাই মারমা (৫০) পিতা- মমশে মারমা ও ঊষামং মারমা (৩২), পিতা- চুড়া মারমাকে মারধর করে পুলিশের হেফাজতে দিয়েছে। মানিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম-এর সাথে ঘটনাস্থলে গেলে সেটলাররা তাদের ওপর চড়াও হয়ে সেনা-পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের মারধর করে। এছাড়া এর আগে সেটলাররা অংসিলা মারমা নামে এক ব্যক্তির দোকান ভাংচুর করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো: মতিন দীর্ঘদিন ধরে লাফাইডং পাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। গতকাল বুধবার রাতে কে বা কারা তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের ধারণা-পাহাড়িদের জায়গা-জমি বেদখল করার উদ্দেশ্যে সেটলাররা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

এ ঘটনার পরপরই পাহাড়িদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে সেটলার বাঙালিরা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সেটলাররা জড়ো হচ্ছে বলে খবর আসছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আতঙ্কিত পাহাড়িরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় পাহাড়িদের জায়গা-জমি বেদখল করতে সেনা-সেটলাররা চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু পাহাড়িদের প্রতিরোধের মুখে তারা বার বার ব্যর্থ হয়। এই ভূমি বেদখল প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার রাব্বি আহসান কিছুদিন আগে জনপ্রতিনিধিদের ডেকে পাঠিয়ে ওই এলাকায় লাশ ফেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টিরও হুমকি দিয়েছিলেন। এরই পরিকল্পনা অনুসারে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে পাহাড়িদের জায়গা-জমি বেদখল করার লক্ষ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে এলাকার সচেতন মহল ধারণা করছেন।
——————

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.