৭ মার্চ শহীদ অমর বিকাশ দিবস

‘মুখোশ বাহিনীর’ বিরুদ্ধে জনতার লাঠি মিছিলের ঐতিহাসিক ছবি

0
0
সেনা সৃষ্ট মুখোশ বাহিনীর বিরুদ্ধে জনতার লাঠি মিছিল। জনগণের প্রতিবাদের মুখে পরে সেনাবাহিনী মুখোশ বাহিনীকে ভেঙে দিতে বাধ্য হয়। # ফাইল ছবি।
‌এটি সেনাবাহিনীর সৃষ্ট ‘মুখোশ বাহিনীর’ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনতার লাঠি মিছিলের ছবি। জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে পরে সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী মুখোশ বাহিনীকে ভেঙে দিতে বাধ্য হয়।  জনগণ  প্রতিবাদ প্রতিরোধে গর্জে উঠলে কোন শক্তিই তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না এই ছবিটি তারই উদাহরণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসে এই ছবিটি সাহসিকতা, বীরত্ব ও  জনগণের সংগ্রামী ঐক্যের একটি স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ছবি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। #ফাইল ছবি

 

ডেস্ক রিপোর্ট।।  আজ ৭ মার্চ শহীদ অমর বিকাশ দিবস। দিনটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল প্রতিরোধেরও একটি দিন। ১৯৯৬ সালের এ দিন সেনাবাহিনীর সৃষ্ট ‘মুখোশবাহিনীর’ হামলা প্রতিরোধে খাগড়াছড়ি সদরে সর্বস্তরের জনতা লাঠিসোটা নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। মুখোশ বাহিনীর সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করে ক্যান্টনমেন্টের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এ সময় মুখোশবাহিনীকে সহায়দানকারী সেনা সদস্যদের গুলিতে শহীদ হন ২০ বছরের টগবগে যুবক অমর বিকাশ চাকমা। জখম হন সিন্ধু বিকাশ চাকমা (২৭) ও বিজয় কান্তি মারমা (২৫)।

ঘটনার দিন সেনাসৃষ্ট মুখোশবাহিনী গভীর রাতে তৎকালীন পাহাড়ি গণপরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য বিম্বিসার খীসাকে দ্বিতীয় বারের মত পেরাছড়ার বাড়িতে হামলা চালালে ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রতিবেশীদের ‘মুখোশ, মুখোশ বাহিনী এসেছে’ চিৎকারে মুহুর্তের মধ্যে পেরাছড়ায় লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে নেমে পড়ে। এলাকায় দস্যু মুখোশবাহিনী আসার খবর বিদ্যুত বেগে ছড়িয়ে পড়লে নিকটস্থ সিঙ্গিনালা, রাবার ফ্যাক্টরি, স্টেডিয়াম এলাকা, খবংপুজ্জ্যা, নারাঙহিয়া ও মা’জনপাড়ার শত শত লোক লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। পেরাছড়া ও স্বনির্ভরবাজারের মধ্যস্থল স্টেডিয়াম সংলগ্ন পানছড়ি সড়কে জনতা এক প্রতিরোধ ব্যুহ রচনা করে। হামলাকারীরা স্ট্রিট লাইট আগেই বন্ধ করে দিয়েছিল। মুখোশবাহিনীকে সহায়তাদানকারী রাস্তায় দাঁড়ানো দু’টি পিক-আপের হেডলাইটও নিভিয়ে রেখেছিল সেনা সদস্যরা। উত্তেজিত জনতাকে ভয় দেখাতে মুখোশবাহিনী ককটেল ফাটালে, তাতে লোকজন আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ‘ধর! ধর!’ বলে ক্রুদ্ধ জনতা এগুতে থাকে। ক্রুদ্ধ জনতাকে সন্ত্রস্ত করতে সেনা সদস্যরা ফায়ার করলে তা যেন অগ্নিতে ঘৃতাহুতির মত অবস্থার সৃষ্টি হয়! অমর বিকাশ চাকমা গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ আর সিন্ধু বিকাশ চাকমা ও বিজয় কান্তি মারমা জখম হলেও তাতে দমে যায়নি প্রতিবাদী জনতা। আত্মরক্ষার্থে পজিশান নিয়ে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ক্রুদ্ধ জনতা অগ্রসর হতে থাকে। ভোর রাত তিনটা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। উত্তাল সমুদ্র তরঙ্গের মত জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে দুই পিক-আপ সেনা জওয়ান মুখোশদের নিয়ে পিছু হটতে থাকে। জনতাও তাদের পিছু নেয়। এভাবে ধাওয়া করতে করতে খেজুড়বাগান উপজেলা পর্যন্ত সেনা-মুখোশবাহিনীকে জনতা তাড়িয়ে নিয়ে যায়। জনতার তাড়া খেয়ে সেনা জওয়ান-মুখোশবাহিনী চেঙ্গীস্কোয়ার হয়ে ক্যান্টনমেন্টের দিকে পালিয়ে যায়। গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসে এ দিন সাহসিকতা বীরত্ব ও সংগ্রামী ঐক্যের এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও পাহাড়ি গণপরিষদ (পিজিপি)-কে গণতান্ত্রিক পন্থায় মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা এ ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী গঠন করে নাম দিয়েছিল ‘পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও পাহাড়ি গণপরিষদ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি (পিপিএসপিসি), যা মুখোশবাহিনী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেনা ছত্র ছায়ায় থেকে ঠ্যাঙ্গারে বাহিনীটি এলাকায় তাণ্ডব সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র-জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে সরকার আর সন্ত্রাসী মুখোশবাহিনীকে মাঠে নামাতে পারেনি।
——————–

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.