রাঙামাটির বন্দুকভাঙায় সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে এক ইউপিডিএফ সদস্য আহত, নিখোঁজ ১

0
1

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিএইচটিনিউজ.কম
রাঙামাটি সদরের বন্দুকভাঙা ইউনিয়নে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফ সদস্য পিকাশ চাকমা ওরফে নিকাশ(২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া সুসময চকমা ওরফে কাপন (৩৫) নামে অপর এক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ ২৬ মার্চ বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভিটা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পিকাশ চাকমা ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের কেরেটছড়ি গ্রামের অজিত কুমার চাকমার ছেলে আর নিখোঁজ সুসময় চাকমা জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া ইউনিয়নের কদুরখীল গ্রামের অশোক কুমার চাকমার ছেলে।

জানা যায়,  বুধবার সকালে ইউপিডিএফ কর্মীরা ইঞ্জিনচালিত বোট যোগে সাংগঠনিক কাজে যাচ্ছিলেন।  যাবার পথে  চেয়ারম্যান ভিটা নামক স্থানে পৌঁছলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাদের বোট লক্ষ্য করে অতর্কিতে ব্রাশ ফায়ার করে। এ সময় জীবন বাঁচানোর তাগিদে পিকাশ ও সুসময় কাপ্তাই লেকের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী পিকাশ চাকমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করলেও সুসময় চাকমা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পিকাশ চাকমার পিঠে ও দুই হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।  নিখোঁজ সুসময় চাকমাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে ই্উপিডিএফ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর রাঙামাটি জেলা ইউনিটে সংগঠক সচল চাকমা এক বিৃবতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনাকে কাপুরুষোচিত ও ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে বলেন, সন্তু-উষাতন তালুকদারের নির্দেশে তাদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা একের পর এক ইউপিডিএফের কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।  উষাতন তালুকদার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাদের পালিত সন্ত্রাসীরা রাঙামাটির বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। প্রকাশ্যে তারা সশস্ত্র কর্মকান্ড চালালেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে। যার ফলে তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে তিনি সন্তু লারমা ও উষাতন তালুকদারের প্রতি খুন-খারাবির রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এধরনের খুনের রাজনীতি পরিহার করে জনগণের কল্যাণে কাজ করুন। আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও এমপি’র ক্ষমতাবলে যেভাবে খুন-খারাবি চালাচ্ছেন তা অবিলম্বে বন্ধ করুন। অন্যথায় সকল পরিস্থিতির জন্য আপনারাই দায়ী থাকবেন।

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে সশস্ত্র হামলাকারী সন্তু-উষাতন গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

 


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.