রামগড় ও মানিকছড়িতে জনপ্রতিনিধিসহ ৬ গ্রামবাসীকে আটকের নিন্দা ও প্রতিবাদ ইউপিডিএফ’র

0
1

সিএইচটি নিউজ ডটকম
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সমন্বয়ক প্রদীপন খীসা এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক রামগড়ের কালাপানি, টিলাপাড়া ও মানিকছড়ির বক্রি পাড়া থেকে এক জনপ্রতিনিধি (মেম্বার) ও দুই গ্রাম প্রধান (কার্বারী) সহ ৬ গ্রামবাসীকে আটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

Bibrityবিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাতের দিকে (রাত ২:৩০টা) সিন্দুকছড়ি জোনের একদল সেনা সদস্য রামগড় উপজেলাধীন হাফছড়ি ইউনিয়নের টিলাপাড়া গ্রামে হানা দিয়ে ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার বিষু কুমার চাকমা (৫০), পিতা- নিশি মোহন চাকমাকে আটক করে। একই সময় সেনারা ওই গ্রামের বাসিন্দা মেমং মারমা (৪০), পিতা- উসাখই মারমা,  আথুইমং মারমা (৪০), পিতা সুইহ্লা প্রু মারমা ও মমং মারমা (৩২), পিতা-কংচাই মারমাকে আটক করে নিয়ে যায়। একই সময় সেনাদের অপর একটি দল কালাপানি গ্রামে গিয়ে গ্রামের কার্বারী ক্রিঅং মারমাকে আটক করে। এছাড়া রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সেনারা মানিকছড়ির বক্রি পাড়ায় হানা দিয়ে ওই গ্রামের কার্বারী যুগেশ চন্দ্র চাকমা (৭০), পিতা- মৃত দীনবন্ধু চাকমাকে অন্যায়ভাবে আটক করে নিয়ে যায়।

বিবৃতিতে ইউপিডএফ নেতা এলাকায় পাহাড়িদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে বলেন, ওই এলাকার পাহাড়ি জনগণের মধ্যে সেনাবাহিনী এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সেটলার বাঙালি কর্তৃক ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সেনাবাহিনী নিরীহ গ্রামবাসীদের আটকের মাধ্যমে এলাকার জনমনে ভীতি সঞ্চার করছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রতিবাদ করতে না পারে। রাতের অন্ধকারে সেনাবাহিনীর এহেন ধরপাকড়ের কারণে এলাকার পাহাড়ি জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ওই এলাকায় যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসা পাহাড়িদের নিজ জায়গা-জমি ও বসতভিটা থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী সেখানে সেটলার বাঙালিদের পুনর্বাসনের চক্রান্ত করছে। তারই অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে এই ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে আটক গ্রামবাসীদের নিঃশর্ত মুক্তি, অন্যায় ধরপাকড়, ঘরবাড়ি তল্লশি-হয়রানি ও সেটলার বাঙালিদের দিয়ে পাহাড়িদের জায়গা-জমি বেদখল বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
——————

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.