রামগড়-মানিকছড়িতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে প্রশাসনের বাধা : বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

0
0

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটিনিউজ.কম
গত ১৭ এপ্রিল ১১ রামগড় ও মানিকছড়িতে সেটলার কর্তৃক পাহাড়ি গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দোহাই দিয়ে বাধা প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন। আজ ২৫ এপ্রিল ২০১১ সোমবার তারা এ বিবৃতি প্রদান করেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন, প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট মুরুব্বী অনন্ত বিহারী খীসা, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রভাকর চাকমা, বাংলাদেশ ত্রিপুরার কল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুশীল ত্রিপুরা, বাংলাদেশ মারমা উন্নয়ন সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়াইপ্রু মারমা, ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক ও বয়জ্যেষ্ঠ মুরুব্বী বিনোদ বিহারী চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মধু মঙ্গল চাকমা, চাঙমা একাডেমীর সম্পাদক আর্য্যমিত্র চাকমা, ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রবি শংকর তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রামের বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সমন্বয়ক চাইথোয়াই মারমা, ধর্মপুর আর্য্য বনবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পূর্ণচন্দ্র চাকমা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিরাপদ তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বাঁশরী মারমা, খাগড়াছড়ি পৌর কাউন্সিলর মংরে মারমা, গোলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুনীল দেবী চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা হেডম্যান এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ক্ষেত্রমোহন রোয়াজা, জেলা কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি রণিক ত্রিপুরা, সাবেক পৌর কাউন্সিলর কিরণ মারমা, বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মংসুইথোয়াই চৌধুরী, বৃহত্তর খবংপুয্যা সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি পুরুষোত্তম চাকমা, আদিবাসী অধিকার সংরণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মিলন দেওয়ান মনাঙ, শ্রম যান মালিক-শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি চঞ্চুমণি চাকমা, দেওয়ান বাজার কমিটির সভাপতি দীপায়ন চাকমা ও সহ সভাপতি অনুপম চাকমা, চমক বহুমুখী কল্যাণ সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মঞ্জুলাল দেওয়ান এবং পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অগ্রজ্যোতি স্থবির।

সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন বেসরকারীভাবে কোন ত্রাণ সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিয়ে যেতে দিচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেসরকারীভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসন, এমপি, মন্ত্রী ও সেনা ব্রিগেডের কাছ থেকে বার বার সহযোগিতা চেয়েও কোন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত সরকারীভাবে যেসব ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ মানুষ বর্তমানে কাল বৈশাখীর দিনে খুবই দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন। ঘটনার পর গত ৯ দিন ধরে নারী-শিশু-বৃদ্ধ সহ ক্ষতিগ্রস্ত শত শত মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে এবং খোলা আকাশের নীচে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বেসরকারীভাবে ত্রাণ বিতরণে অনুমতি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্তদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রচারের জোর দাবি জানান। অন্যথায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.