লংগদু’র পোড়া গ্রামগুলোর মানুষ এবার ‘বৈসাবি’ উৎসব করবে না : ক্ষতিগ্রস্তদের ঘোষণা

0
0

লংগদু : রাঙামাটির সেই লংগদুতে এই ‘বৈসাবি’তে কোন উৎসব হবে না। থাকবে না ঘরে ঘরে পাহাড়ি নারীদের ‘পাজন’ রান্নার উৎসবমূখর ব্যস্ততা এবং পরিচিত অপরিচিত আগন্তুক অতিথিদের হৃদয় নিংড়ানো আপ্যায়ন। প্রতিবছর শিশুরা রং বেরঙের পোশাক পড়ে দল বেঁধে যেভাবে এই বাড়ি ঐ বাড়ি ঘুরতো, আনন্দ উল্লাস করতো, হাসি-গানে মাতিয়ে রাখতো সারা পাড়া গ্রাম, এই বছর তাদের মুখে ফুটবেনা কোন হাসি-গান, থাকবেনা কোন আনন্দ।

আজ শনিবার (৭ এপ্রিল) লংগদু সদরের তিনটিলাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ত্রান (নগদ অর্থ) বিতরণ উপলক্ষে আযোজিত এক সভায় পাহাড়িদের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসবকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সাম্প্রদায়িকতার তাণ্ডবে ভষ্মিভূত হওয়া তিন গ্রামের ২১৩টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিরা।

সকাল সোয়া ১০টায় ত্রান গ্রহণ ও বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক অশ্বিনি কুমার চাকমা (কার্বারী) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা ত্রান সংগ্রহ ও বিতরণ কমিটির সদস্য সচিব তপন বিকাশ ত্রিপুরা, ২৪ নং মিইনি ডোর মৌজার হেডম্যান ও ত্রান গ্রহণ ও বিতরণ কমিটির সদস্য সচিব মানিক কুমার চাকমা ও ১ নং আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গল কুমার চাকমা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ৭ নং লংগদু সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু) ও মনি শংকর চাকমা। এছাড়াও সভায় খাগড়াছড়ি ত্রান সংগ্রহ ও বিতরণ কমিটির অর্থ সম্পাদক নিপুল কান্তি চাকমা ও সদস্য মঞ্জু লাল চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

সভার শেষে খাগড়াছড়ি ত্রান সংগ্রহ ও বিতরণ কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ২১৩ পরিবারের জন্য সর্বমোট ২ লক্ষ ১৩ হাজার নগদ অর্থ লংগদু ত্রান গ্রহণ ও বিতরণ কামিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এরপর প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

সভা থেকে লংগদু সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সমালোচনা করে বলা হয় ঘটনার ১০ মাস হলো এখনো বাড়িঘর নির্মান করে দেয়া হয়নি। তারা সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনার এতদিন পরও বাড়ি নির্মান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সভা থেকে এই বছরের ‘বৈসাবি’ ‍উৎসবকে বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, চরম অর্থাভাব ও ঘরবাড়িহীন এক মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে ‘বৈসাবি’র মতো একটা আন্দঘন প্রধান সামাজিক উৎসব উদযাপন সম্ভব নয়। সরকার কেবল বাড়ি নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব খালাস করেছে। কোন সাহায্য সহযোগিতা দিচ্ছে না। এই অবস্থায় ‘বৈসাবি’র উৎসব বিষাদে পরিণত হয়েছে। তাই পাহাড়িদের এই প্রধান সামাজিক উৎসবকে বর্জনে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তারা।

# ফাইল ফটো

উল্লেখ্য, গত ০১ জুন ২০১৭ খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৪ মাইল নামক এলাকায় লংগদু নিবাসী ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন নামে এক মটর সাইকেল চালকের লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যার ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা পরিষ্কার না হলেও এই লাশ পাওয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ স্থানীয় সেটলারদের জড়ো করে লংগদু উপজেলা সদরে ২ জুন (শুক্রবার) দুপুরে এক প্রকাশ্যে উস্কানীমূলক সমাবেশ করে । উক্ত সমাবেশে তৎকালীন সেনাবাহিনী মাইনি জোন কমান্ডার ও লংগদু সদর থানার ওসি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন। সমবেশ শেষে সেটেলার বাঙালিরা একটি জঙ্গি মিছিল নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক শ্লোগান দিতে দিতে সেনা ও পুলিশের উপস্থিতিতে সদরের তিনটি পাহাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে।
______
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.