লক্ষ্মীছড়ির বর্মাছড়িতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বিশাল যুব সমাবেশ

0
2

লক্ষ্মীছড়ি : খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়িতে বিশাল যুব সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।  ১৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি।

আজ সোমবার (২ এপ্রিল ২০১৮) সকাল ১০টায় বর্মাছড়িতে অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-যুবক-নারী অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে শুরুতে জনগনের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি রিপন চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ক্যমরন চাকমার সঞ্চালনা বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক ক্যহলাচিং মারমা ও লক্ষ্মীছড়ি ইউনিটের সংগঠক পুলক জ্যোতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থৈইক্যচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য রোনাল চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের কেন্দ্রীয় সদস্য মেরিনা চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা, ১নং লক্ষীছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমা, ২নং দুল্যাতলি ইউপি চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা, ৩নং বর্মাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হরি মোহন চাকমা, ২নং ফটিকছড়ি ইউপি’র প্রাক্তন সদস্য শ্যামল চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিওয়াইএফ-এর ২নং বর্মাছড়ি ইউপি’র সভাপতি উৎপল চাকমা।

এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত থেকে সমাবেশে সংহতি জানান ২নং ফটিকছড়ি ইউপি সদস্য রনদ্বীপ চাকমা, বিশিষ্ট সমাজসেবক সুরেশ কান্তি চাকমা, বর্মাছড়ি গ্রাম প্রধান ললিত কার্বারী ও স্থানীয় মুরব্বি সত্য বিকাশ চাকমা।

সমাবেশ চলাকালীন একদল সেনা সদস্য গিয়ে বাধা প্রদানের চেষ্টা করে। পরে তাদের সাথে জনপ্রতিনিধিরা কথা বললে তারা সেখান থেকে চলে যায়।

সমাবেশে ইউপিডিএফ নেতা ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের যুব সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র যুব সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম। পাহাড়ের নিপীড়িত জনগণের ন্যায্য দাবি পূর্ণস্বায়ত্বশাসনের আন্দোলনে যুব সমাজের এ সংগঠনের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকার-সেনা-সেটলারে ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন-ধর্ষন-অপহরণ-খুন-গুম, হত্যার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে। জনগণের সংগঠিত আন্দোলনকে রুদ্ধ করতে শাসকগোষ্ঠী বোরখা পাটি, নব্য-মুখোশ বাহিনী সৃষ্টি করেছে। এই নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা গত ৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি শহরে পিসিপি’র সাবেক সভাপতি এবং ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে।  তিনি বলেন, সেনা-সৃষ্ট বোরখা পার্টির বিরুদ্ধে লক্ষ্মীছড়ি জনগণ ব্যাপক প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলেছে এবং বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নব্য-মুখোশদের বিরুদ্ধেও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে।’

যুব ফোরাম নেতা থুইক্যচিং মারমা বলেন, “রাঙামাটির কুদুকছড়ি থেকে সেনাসৃষ্ট নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহৃত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রীকে ১৬ দিনেও প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনি। তিনি প্রশাসনের নিরব ভূমিকা কোনোমতেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন।

তিনি অবিলম্বে অক্ষত অবস্থায় দুই নেত্রীকে উদ্ধারে জোর দাবি করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

সমাবেশে জনপ্রতিনিধিগণ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগনের ন্যায্য আন্দোলনে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাহসীকতার প্রশংসা করেন এবং পূর্ণস্বায়ত্বশাসনের দাবি আদায়ের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
—————–
সিএইচটিনিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.