শাহবাগে লেখক-শিল্পী-ছাত্র-শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মীদের সমাবেশ

আলোকচিত্রী শহীদুল আলমসহ আটক সকল শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবি

0
1

ঢাকা : লেখক, শিল্পী, ছাত্র-শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মীদের এক সমাবেশ থেকে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহীদুল আলমসহ গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার (১১ আগস্ট) বিকাল সাড়ে তিনটায় শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে এই সংহতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

পাঠশালার শিক্ষক, আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার-এর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সেন্ট্রলা উইমেনস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক পারভীন হাসান, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নারীনেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শিরীন হক, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী হাসনাত কাইয়ূম, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অনুবাদক ও অধ্যাপক জি এইচ হাবীব, হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর সভাপতি নিরুপা চাকমা, পাঠশালা ও দৃকের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এস এম রেজাউর রহমান, একুশে পদক প্রাপ্ত আলোকচিত্রী গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন এর সভাপতি গোলাম মোস্তফা, নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব প্রমুখ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, একদিকে হেলমেট পরা সন্ত্রাসীদের রাজত্ব চলতে থাকবে, আরেকদিকে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হবে, সত্য বলার দায়ে শহীদুল আলমরা এই দেশে গ্রেফতার হতে থাকবেন। এই অবস্থার অবসানে বাংলাদেশের মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তার বক্তব্যে বলেন, এই সরকারে ক্ষমতাদর্পী রূপটি শহীদুল আলমের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্যাতন তারা করেছে, তা মানুষ মনে রাখবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, এই সরকার তার সকল জনসমর্থন হারিয়ে এখন আতঙ্ক, গুজব আর লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চাইছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের নিজেদের আতঙ্কগ্রস্থ দিশাহারা ভেতরটাই প্রকাশিত হয়েছে। শহীদুল আলমের মত অকুতোভয় মানুষেরা চিরকাল জনগণের সাহস আর প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

শিরীন হক বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভয়কে অতিক্রম করেছেন, শহীদুল আলমকে গ্রেফতারে মধ্য দিয়ে তারা যা অর্জন করতে চাইছিল, তা তারা পায়নি।

সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ চায় শহীদুল আলম নিঃশর্ত মুক্তি পাক, আটক শিক্ষার্থীরাও একই ভাবে নিঃশর্ত মুক্তি পাক।

অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, সরকার যখন জনতার সাথে এই রকম যুদ্ধ ঘোষণা করে, তখন তার সকল নৈতিক বৈধতা হারিয়ে ফেলে।

অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন,  সরকার বুঝতে পারছে না যে, ভয়ের অস্ত্রে আর কাজ হবে না। অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান বলেন, যে কোন সমালোচনা দমনের জন্য তাকে কালিমালিপ্ত করার সরকারী কৌশল আর কাজ করছে না।

সামিনা লুৎফা বলেন, শহীদুল আলমের কথার সাথে যে কারও ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু যে কোন ভিন্নমতের বাকস্বাধীনতার জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে।

জি এইচ হাবীব প্রশ্ন রাখেন, কেন একদিকে গু-ারা যা খুশি তাই করতে পারবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা কিংবা শহীদুল আলম কোন ন্যায্য প্রশ্ন উত্থাপন করলেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া হবে।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, আইন-কানুন, রীতিনীতিকে ভূলুণ্ঠিত করে বর্তমান সরকার শহীদুল আলমদের হাসপাতাল থেকে রিমান্ডে পাঠাচ্ছে, রীতিমত অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করছে।

নিরুপা চাকমা বলেন, সকল নির্যাতনের বিরুদ্ধে শহীদুল আলমকে পাশে পেয়েছেন বাংলাদেশের জাতিসত্তার জনগণ। তিনি অচিরেই শহীদুল আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি করেন।

বক্তরা শহীদুল আলমের অর্জন তুলে ধরে বলেন, দৃক ও পাঠশালার মত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং ছবিমেলার মত বিশ্বমানের প্রদর্শনীর আয়োজক শহীদুল আলমের মত একজন বিখ্যাত মানুষের ন্যূনতম বাকস্বাধীনতা না থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি সহজেই অনুমেয়।

বক্তারা আরও বলেন, আলোকচিত্রী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার কোন বিচার হয়নি, চিরুনী অভিযান চালিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থীদের গণগ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন পরিচালনা করা হয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে শহীদুল আলম সহ সকল বন্দীর মুক্তি দাবি করে বলেন, বাকস্বাধীনতার ওপর কঠোরতম হস্তক্ষেপ অতীতের কোন শাসককে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করেনি।

সমাবেশে সাংবাদিক-লেখক ফারুক ওয়াসিফ, শিল্পী অরূপ রাহী, শিল্পী অমল আকাশ, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ফিরোজ আহমেদ, আলোকচিত্রী মুনেফ ওয়াসিফ, সাইফুল হক অমি, শিল্পী বীথি ঘোষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা আকতার, অধ্যাপক সামিয়া খাতুন, অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, সিপিবি নেতা লাকী আকতার, শিল্পী বড়–য়া, চলচ্চিত্রকার তাসমিয়া আফরিন মৌ, শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, চলচ্চিত্রকার আকরাম হক, চলচ্চিত্রকার ব্রাত্য আমিন, আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া,  অনুবাদক ও লেখক ওমর তারেক চৌধুরী, অ্যাকটিভিস্ট নাজনীন শিফাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নারীপক্ষ, সমগীত, লীলা, প্রাচ্যনট, বটতলা, বেগার্ট আর্ট ইনস্টিটিউট, বৃত্ত আর্টিস্ট ট্রাস্ট, বাংলাদেশ লেখক ঐক্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পেশাজীবী ও গণ সংগঠন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদুল আলমের মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হয়। তারা বাকস্বাধীনতা, শিল্পীর স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করার অধিকার নিয়ে বিভিন্ন ফেস্টুন, প্লাকার্ড ও শ্লোগান হাতে ধরে রাখেন।
——————–
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.