শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি ইউপিডিএফ ও তিন সংগঠনের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

0
0

সিএইচটি নিউজ ডটকম
Dhaka2, 14 Dec 2015ঢাকা: পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিয়োজিত অধিকারহারা নির্যাতিত মানুষের রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) ও সহযোগী তিন সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম আজ ১৪ ডিসেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসমাধিতে পুষ্পার্ঘ দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাইকেল চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রিনা চাকমাসহ ঢাকাস্থ নেতা-কর্মীবৃন্দ।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্মান জানানোর লক্ষ্যে ভোর থেকে ইউপিডিএফ এর টিম ব্যানার, পুষ্পস্তবক নিয়ে মিরপুরে স্মৃতিসমাধির সন্নিকটে জমায়েত হয়। অংশগ্রহণকারী দলের ব্যানারে বড় বড় হরফে লেখা ছিলো- ‘ঘাতক দালালদের প্রতিরোধ করুন! নব্য পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন! ’৭১-এ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর বিনম্র শ্রদ্ধা’।

দীর্ঘ সারি পেরিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের সময় সংগঠনের নেতাকর্মীগণ “শহীদের চেতনা ভুলি নাই ভুলবো না, শহীদ স্মৃতি অমর হোক, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়ন বন্ধ কর, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা কর্তৃত্ব তুলে নাও” ইত্যাদি শ্লোগান দেয়।

P1090945এছাড়া ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যা পরিচালনার দায়ে পাকিস্তানের ক্ষমা দাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি সম্বলিত একটি প্রচারপত্র শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসমাধিতে আসা জনগণের কাছে বিলি করা হয়। প্রচারপত্রে গত ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিন সংহতি দিবসের মিছিল থেকে সেনা-পুলিশ কর্তৃক আটককৃত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী নিরূপা চাকমা ও সদস্য দ্বিতীয়া চাকমাসহ আটককৃত সকল নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি জানানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা শাসন বৈধতাদানের দলিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণবিরোধী ‘১১ দফা নির্দেশনা’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।#

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত প্রচারপত্রের বক্তব্য হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
আজ ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় জীবনে এক অতি বেদনাদায়ক ক্ষণ। স্বজনহারাদের নিকট এটি অবর্ণনীয় দুঃখ ভারাক্রান্ত দিন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার প্রাক্কালে হানাদার পাক বাহিনী এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আল বদর, আল সামসদের সহায়তায় বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বাছাই করে পরিকল্পিতভাবে এ দিন হত্যা করেছিল। পৃথিবীতে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অনেক হত্যাকা-ের মধ্যে পূর্ব বাংলায় বুদ্ধিজীবী হত্যা একটি জঘন্য ও নৃশংস হত্যাকা- হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বারের মত এবারও পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমরা জানাই গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা। সেই সাথে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বজনদের একাত্মতা প্রকাশ করছি। মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতিও জানাই আমাদের গভীর সম্মান ও সংগ্রামী অভিবাদন।

নির্বিচারে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান এত বছর পরও এদেশের জনগণের নিকট ক্ষমা চায় নি। উল্টো পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনরা অতীতের ঘৃণ্য ফৌজী শাসকদের নীতি অনুসরণ করে তাদের পক্ষে সাফাই গাইছে, আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার লংঘন করে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, এর জন্য আমরা পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এ দেশের জনগণের নিকট ক্ষমা প্রার্থনার দাবি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। মানবতা বিরোধী হত্যাকা- বিশ্বের যে প্রান্তেই ঘটুক, বিবেকবান মানুষ তাতে নিশ্চুপ থাকতে পারে না। ’৭১ সালে পাকিস্তানের ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বের বহু মানবতাবাদী সংগঠন, ব্যক্তি প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমানে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের যে বর্বর আগ্রাসন নিপীড়ন চলছে, তার প্রতিবাদেও সরব বিশ্বের গণতন্ত্রকামী বিবেক।P1090955 (1)

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জাজনক ব্যাপার হচ্ছে, গেল ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত ‘ফিলিস্তিন সংহতি দিবসে’ একাত্মতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে আট গণসংগঠনের কনভেনিং কমিটি সমাবেশ করতে গেলে সেনা-পুলিশ হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৪ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে গুরুতর জখম করে। হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী নিরূপা চাকমাসহ ৭ জন নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে আটক করে। এহেন ঘৃণ্য কাজ ইসরায়েলি সৈন্যদের পক্ষেই সম্ভব। গাজা, পশ্চিম তীর বা রামাল্লায় প্রতিনিয়তই ইসরায়েলি সৈন্যরা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের তাদের আদিনিবাস থেকে উচ্ছেদ করতে ইহুদি সেটলারদের পুনর্বাসন করে চলেছে।

১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসেও খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সেনা মদদে সেটলাররা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সমাবেশে হামলা করে জখম করেছিল। খোদ খাগড়াছড়ি সদরে মানবাধিকার দিবসে শান্তিপূর্ণ সভা করার অনুমোদন দেয় নি।

ক্ষমতাসীন সরকার মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি হিসেবে নিজেকে জাহির করতে চাইলেও কার্যকলাপে এ সরকারের আচরণ দ্বিমুখী। পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার পাকিস্তান অনুসৃত নীতি বাস্তবায়ন করে চলেছে। পাকিস্তানি কায়দায় সেনা-পুলিশ পাহাড়ি জনগণের ওপর লেলিয়ে দিচ্ছে। ইসরায়েলের মত সেটলার পুনর্বাসন অব্যাহত রেখেছে। পৈতৃক বাস্তুভিটা থেকে পাহাড়ি জনগণকে উচ্ছেদ করতে সেটলার লেলিয়ে দিচ্ছে। অন্যায়ভাবে ‘বাঙালি জাতীয়তা’ চাপিয়ে দিয়েছে। গণবিরোধী ‘১১দফা নির্দেশনা’ জারি করে পার্বত্য চট্টগ্রামে কার্যত ফৌজি শাসন কায়েম করেছে। এর প্রতিবাদে দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আহ্বান :
* গণতন্ত্র মানবতা রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ হোন
* পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করতে হবে!
* হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী নিরূপা চাকমা সহ সকল রাজবন্দীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে
* পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে গণবিরোধী ‘১১দফা নির্দেশনা’ তুলে নিতে হবে।

১৪ ডিসেম্বর ২০১৫
মিরপুর, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধ, ঢাকা
———————-

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

 


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.