শোকাবহ গণহত্যার দিনটি স্মরণ করলো নান্যাচর এলাকাবাসী

0
80

নান্যাচর প্রতিনিধি ।।  আজ ১৭ নভেম্বর ২০২০ নান্যাচর গণহত্যার ২৭তম বার্ষিকী। ১৯৯৩ সালের আজকের এই দিনে নান্যাচর বাজারে সেনা-সেটলার কর্তৃক এ বর্বর গণহত্যা সংঘটিত হয়।

এ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করেছে নান্যাচর এলাকাবাসী।

আজ সকাল ৮টার সময়ে এলাকাবাসী, শহীদ পরিবারবর্গ ও বিভিন্ন সংগঠন অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদ পরিবারের পক্ষে সুরতি চাকমা, চিকন চান ও চিত্তরঞ্জন চাকমা, এলাকাবাসীর পক্ষে-নিবেদন খীসা, অর্পন ও সুমেধ চাকমা এবং  ইউপিডিএফ, ডিওয়াইএফ ও পিসিপির পক্ষে ছদরক, অঙ্গদার ও গিতা চাকমা অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বী নিবেদন খীসার সভাপতিত্বে ও পার্বত্য নারী সংঘের পুষ্পিতা চাকমার সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের ছদরক চাকমা ও পিসিপি জেলা শাখার সহ-সভাপতি নেপচুন চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা সেদিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, সাপ্তাহিক হাটবার হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সেদিন জুম্ম নারী-পুরুষ বাজার করতে এসেছিলেন। যাত্রী ছাউনিকে সেনা চেকপোষ্ট বানানোর প্রতিবাদ জানিয়ে এবং যাত্রী ছাউনিকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবিতে সেদিন পাহাড়ি ছাত্র ও এলাকাবাসীর শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সেটলার বাঙালি লাঠি সোটা হাতে, দা-বল্লম হাতে জুম্মদের উপর আক্রমণ করে। একই সাথে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে সেনা সদস্যরা। সেদিন ৩০ জনের অধিক জুম্মকে হত্যা করা হয়। অনেকে নিখোঁজ হন। আহত করা হয় দেড় শতাধিক জুম্মকে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় জুম্মদের বহু ঘরবাড়ি।

বক্তারা এ গণহত্যার বিচার ও জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এমন বর্বর গণহত্যার বিচার না হওয়ার পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।

তারা বলেন, ২৭ বছরে রাষ্ট্র এ গণহত্যার বিচার না করে উল্টো পাহাড়িদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চক্রান্ত জারি রেখেছে। ভূমি বেদখল, অন্যায় দমন-পীড়ন আগের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণে করেছে। বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে ম্রো জাতিসত্তার এক হাজার একর জমি কেড়ে নিয়ে সেখানে পাঁচতারকা হোটেল ও বিলাবহুল পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী ও সিকদার গ্রুপ। অঘোষিত সেনা শাসনের ক্ষমতাবলেই জুম্ম জনগণের উপর এমন অন্যায়-অবিচার করা হচ্ছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা নান্যাচর গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

 


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত/প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.