সন্তু গ্রুপের অস্ত্র কেনার টাকা মিজোরামে পৌঁছেছে

1
2

সিএইচটিনিউজ.কম
রাঙামাটি ও শিলকুর॥ জনসংহতি সমিতি সন্তু গ্রুপের অস্ত্র কেনার টাকার একটি কিস্তি মিজোরামের শিলকুরে অবস্থিত সংগঠনটির সশস্ত্র শাখা জুম্ম লিবারেশন আর্মির (জেএলএ) সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

সন্তু গ্রুপের একটি সূত্র সিএইচটি নিউজ ডটকমকে জানায়, গত ২ জুলাই বিধায়ক চাকমার নেতৃত্বে সন্তু গ্রুপের দুই ক্যাডার জেট বোটে করে কাপ্তাই লেক পাড়ি দিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের ডলার জেএলএ-এর প্রধান লক্ষ্মীপ্রসাদ চাকমা ওরফে দেবাশীষ ওরফে রাজা ও জেএলএ-এর অর্থ বিভাগের প্রধান সজন বাবুর হাতে পোঁছে দেন।

JSSইতিপূর্বে সিএইচটি নিউজ ডটকমে সন্তু গ্রুপের প্রধান অস্ত্র সংগ্রাহক জিত চাকমা ঐ টাকা নিয়ে যাবেন বলে রিপোর্ট ছাপা হওয়ায় সন্তু লারমা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিধায়ক চাকমা ও অন্য একজন বিশ্বস্ত কর্মীকে দিয়ে ডলারগুলো পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

সূত্র আরো জানায়, বিধায়ক ও তার সহকর্মীকে  মিজোরাম প্রবেশের আগে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা আটকায়। এ সময় তারা নিজেদেরকে গাছ ব্যবসায়ী পরিচয় দেয় এবং বিজিবি সদস্যদেরকে ঘুষ দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে শিলকুরে চলে যায়।

শিলকুরে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র শাখার জেএলএ-র সদর দপ্তর মিজোরামের ডেমাগ্রী থানাধীন টিপেরা ঘাটের কাছে অবস্থিত।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার জন্য সন্তু গ্রুপ সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে আড়াই কোটি টাকার মূল্যের ডলার কিনেছে।

সন্তু গ্রুপের সূত্রটির ধারণা, সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা হিসেবে ডলারগুলো এক দাগে না পাঠিয়ে কয়েক কিস্তিতে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে সন্তু লারমার সাথে ঘনিষ্ট এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএইচটি নিউজ ডটকমকে বলেন, অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়ার পর ডিজিএফআই ও সরকারের লোকজন সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণের হুমকি দিলে তিনি আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে নিজের গদি রক্ষা করেন। এতে পার্টিকে (সন্তু গ্রুপ) বড় ধরনের রাজনৈতিক মাশুল দিতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন যে, অসহযোগসহ কোন ধরনের আন্দোলন না করার অঙ্গীকার করলে ডিজিএফআই সন্তু লারমাকে মোটা অংকের টাকা দেয়।

তার মতে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়ার পরও আন্দোলনে না যাওয়ায় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন জনগণের কাছে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না।’

জনসংহতি সমিতির মতো এক সময়ের এত বড় একটা পার্টিকে নেতৃত্বের সুবিধাবাদীতা ও আদর্শহীনতার কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে দেখে ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভীষণ হতাশ বলে জানান।

তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের পক্ষে বলেও সিএইচটি নিউজ ডটকমকে জানান। জেএসএস সন্তু গ্রুপের ঐ নেতা আরো বলেন, গত জরুরী অবস্থার সময় ‘স্যার’ ( সন্তু লারমা) আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ হারানোর ভয়ে ভীষণ ভীত হয়ে পড়েছিলেন। সে সময় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও জোর গুঞ্জন উঠেছিল। এ অবস্থায় তিনি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ রক্ষার জন্য প্রথমে চট্টগ্রামের পদাতিক ডিভিশনের জিওসির কাছে ধর্ণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে সমস্যার সুরাহা না হওয়ায় জিওসির পরামর্শে তিনি ঢাকায় গিয়ে ডিজিএফআই প্রধানের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। তখন তাদের মধ্যে কি কথা হয় বা কি শর্তে তিনি তার আঞ্চলিক পরিষদের গদি রক্ষা করেন তা একমাত্র তারা দু’জন বাদে অন্য কেউ জানেন না।

জেএসএস (এমএন. লারমা) এর এক নেতা বলেন, ‘ আমরা দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার আগে একবার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বড় কর্মসূচী গ্রহন করেছিলাম। এটা ২০০২ কি ২০০৩ সালের দিকে হবে। তখন সরকার বেশ বেকায়দায় পড়েছিল। কিন্তু খাগড়াছড়িতে সন্তু লারমার জামাতা ও বর্তমানে সন্তু গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক প্রণতি বিকাশ চাকমাসহ আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হলে সন্তু বাবু আমাকে ফোন করে আন্দোলন কর্মসূচী উইড্র (প্রত্যাহার) করতে বলেন, ‘‘ আমি বললাম, স্যার তারা গ্রেফতার হলেও আমরা তো অনেকে এখনো বাইরে আছি, আন্দোলন চালিয়ে নিতে পারবো। তখন তিনি বললেন ‘‘কী, তোমরা চাও আমি গ্রেফতার হই। ডিজিএফআই-এর লোকজন আমাকে চাপ দিচ্ছে আন্দোলন তুলে নেয়ার জন্য। এখনই আন্দোলন বন্ধ কর।’’ এরপর আর আমার কী করার থাকে বলুন।

জেএসএস এম এন লারাম দলের ওই নেতা আরো বলেন, ইউপিডিএফ তো সন্তু বাবুরই সৃষ্টি। তার ভূল নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণেই যাদেরকে আমরা নির্ভর করে কাজ করতে পারতাম তারা বাধ্য হয়ে নতুন পার্টি গঠন করেছে। তাই, সন্তু বাবুর নেতৃত্ব শেষ হয়ে গেলে আবার সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। যত অশান্তির মূলে তার ভুল নেতৃত্ব – তার ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারীতা।
———————

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.