সাক্ষাতকার

সন্তু লারমা দুর্নীতিগ্রস্ত, তার না থাকলেও চলবে … আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত: করুণালংকার ভিক্ষু

0
5

সিএইচটি নিউজ ডটকম

ঢাকা: সম্প্রতি জেএসএস-সন্তু গ্রুপের নতুন দিল্লীতে বসবাসরত করুণালংকার ভিক্ষু টেলিফোনে বিষ্ফোরক সাক্ষাতকার দেন। (ফোন: ৯১-১১-২৫৩৯৮৩৮৩, +৯১-৭৮২৭৮১৩৩৩৬)। সিএইচটি নিউজ ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, তিনি সন্তু লারমার কাছ থেকে দলের নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত। ভিক্ষু জানান, ‘জেএসএসের কেন্দ্রীয় লেভেলে একটি কমান্ড কাউন্সিল রয়েছে’ এবং এটা (অর্থাৎ সন্তু লারমার কাছ থেকে নেতৃত্ব নিয়ে নেওয়া) ধীরে ধীরে হবে।

করুণালংকার ভিক্ষু
করুণালংকার ভিক্ষু

তার উদ্দেশ্যে লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে ভান্তে বলেন, ‘‘আমি প্রসিতদের মতো করবো না, প্রীতিদের মতোও করবো না এবং সুধাসিন্ধু বাবুদের মতোও করবো না। দেখেন প্রীতি বাবুরা কি করেছে। তাদের লোকবল বেশী ছিল, অস্ত্রশস্ত্র বেশী ছিল, পাবলিক সাপোর্টও তাদের দিকে ছিল, সবকিছুই তাদের পক্ষে ছিল। তারপরও কেন তারা ব্যর্থ হলো?

আমরা বাংলাদেশে যতগুলো সামরিক অভ্যুত্থান দেখেছি, একমাত্র এরশাদ ছাড়া বাকিরা কেউ সফল হতে পারেনি। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে দেখেছি, মিশরের ক্ষেত্রেও দেখেছি-পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সামরিক অভ্যুত্থান, বিভিন্ন দল বিরোধী কার্যকলাপ দেখেছি। আর বাংলাদেশে ওয়ান ইলেভেনে ২০০৭ সালে যা দেখা গেছে যেভাবে আওয়ামী লীগ-বিরোধী বিএনপি-বিরোধী হয়ে গিয়েছিল, তারপরও তারা সফল হতে পারেনি। তদ্রুপ ১৯৮৩ সালে বাদিরা ( প্রীতি গ্রুপ) সফল হলো না। তারপর ইউপিডিএফও সফল হলো না। বিমল ভান্তেও নানাভাবে পার্টি বিরোধী কাজ করেছেন, নন্দপাল ভান্তেও অনেক পার্টি বিরোধীতা করেছেন, কিন্তু কেউ তারা সফল হননি। এমনকি ২০০৭ সালে সংস্কারবাদী নামে একটা ( জেএসএস) হলো, তারাও সফল হলো না। সুতরাং আমার উদ্দেশ্যে হলো আমি সে রকম করবো না।’’

তার শক্তি কোথায় তা দেখিয়ে করুণালংকার ভিক্ষু বলেন, ‘‘ আমি সামরিক ট্রেনিং নিয়েছি, তাই আমার সামরিক বিষয়েও ধারণা আছে। সমাজে চলাফেরা করি, তাই সমাজ সম্পর্কেও ধারণা আছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক ট্রেনিং নিয়েছি, তাই আমার সে ব্যাপারেও অভিজ্ঞতা আছে। আমি জানি বৃটেনে রাজপুত্রদেরকে সামরিক ট্রেনিং দেয়া হয়, কারণ একজন সামরিক প্রশাসক সিভিল প্রশাসনকেও জানে, কিন্তু একজন সিভিল প্রশাসক সামরিক প্রশাসন জানবে না। সুতরাং আমাকে সবকিছু শিখতে হয়েছে। ( কিছু মনে করবেন না এসব বলছি বলে)”

জেএসএস কেডাররা কিভাবে সন্তু লারমাকে পূজা করে, এভাবে এক ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক কিনা, সন্তু লারমার পর জেএসএস শেষ হয়ে যাবে কিনা, এবং তিনি কিভাবে জেএসএস সন্তু গ্রুপ ক্যাডারদের উজ্জীবিত করেন-সিএইচটি নিউজ ডটকমের এ সকল প্রশ্নের উত্তরে করুণালংকার ভিক্ষু জোর দিয়ে বলেন, ‘‘ অনেকে প্রশ্ন করেন সন্তু লারমা মারা গেলে আপনারা কি করবেন। আমরা বলি ‘‘না’’। আমরা ব্যক্তি (সন্তু) পূজা করি না। আমাদের লক্ষ্য হলো জুম্ম জাতির অধিকার অর্জন করা। সেজন্য তোমাদের তোমাদেরকেই গঠন করতে হবে। এক ব্যক্তি একজন নেতা। যেমন, ইউএস সীলস একটা একটা সীল, এক একজন কমান্ডার। তোমাদের নেতৃত্ব দিতে গেলে গড়ে উঠতে হবে। গান্ধী নেই বলে কি ভারত চলবে না? জওহর লাল নেহেরু নেই বলে কি ভারত চলবে না? শেখ মুজিব নেই বলে কি বাংলাদেশ চলছে না? আমাদের সেই ধরণের মানসিকতা না থাকলে আমরা উন্নতি করতে পারবো না। এক ব্যক্তির উপর (সন্তু লারমা) নির্ভরশীল হয়ে থাকা ঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে মন ভেঙে যায়। যেমন এম এন লারমা মারা যাওয়ার পর অনেক কর্মীর মন ভেঙে যায় তার মানে তারা ব্যক্তিকে পূজা করে। এখন নেতৃত্ব কী বলবে জানি না। আমার মতে এখন লোকজন কিছু বিষয় দেখে হতাশ। আমিও এসব বিষয় (সন্তু লারমার দুর্নীতি) দেখে হতাশ হয়ে যাই। হতাশ কেন-কাজগুলো ঠিকমত চলে না। আমরা যদি ঠিক হয়ে যাই তাহলে আমরা আবার অগ্রগতি লাভ করতে পারবো। সুতরাং এবার একজন কর্মী বলছে, ভান্তে, আমরা কাজ করছি আপনাকে দেখে।

জেএসএস সন্তু গ্রুপকে করুনালংকার ভিক্ষুর সঠিক এবং শক্ত নেতৃত্ব দেয়া জনগণের দাবির প্রশ্নে,  করুনালংকার ভিক্ষু বলেন “আচ্ছা, আচ্ছা (হেসে) এসব (নেতৃত্ব গ্রহণ) চলছে এবং চলতে থাকবে। তোমরা এসব নিয়ে চিন্তা করবে না। এসব (নেতৃত্ব গ্রহণ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে। আমরা সিস্টেম উন্নয়ন করবো। আজ এটা একটু আলাদা হতে পারে কিছু, আগামীকাল সেটা  আরো আলাদা হতে পারে। আজ এটি কম হতে পারে, আগামীকাল এটা আরো বেশি হতে পারে, পরশু আবার একটু কম হতে পারে। এটাই নিয়ম। আমরা সবকিছু ইচ্ছা করে করতে পারি না। তাছাড়া গরিব জাতের মাথায় টানলে পায়ে নাই,  আর পায়ে টানলে মাথায় নাই। সেজন্য, চিন্তা করে, ধৈর্য সহকারে কাজটি করতে হবে। এসব কাজ  সর্বোচ্চ ধৈর্য, সর্বনিম্ন  ধৈর্য নয়, সর্বোচ্চ ধৈর্য নিয়ে করতে হয়। যে বেশি ধৈর্য হারা হবে, সে বেশি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে”।

জেএসএস সন্তু গ্রুপের নেতৃত্ব দিতে বৈদেশিক এবং সামরিক অভিজ্ঞতা অপরিহার্যতার প্রশ্নে, করুনালংকার ভিক্ষু বলেন, “আমি আগে (জেএসএস-র) সামরিক কমিশনে ছিলাম। যেহেতু আমার দায়িত্ব বেশি, আমি বলে দিয়েছি আমি আর সামরিক কমিশনে থাকবো না। আমি সামরিক কমিশন থেকে চলে গেলাম। সেখানে (সিএইচটি) আরো অনেক ডিপার্টমেন্ট যেমন অর্থ বিভাগ ইত্যাদি আছে। আমি মূলত বিদেশ এবং সামরিক কমিশনে ছিলাম।”….

এসময়ে ভান্তের ফোন আসে……..। (সাক্ষাত্কার চলতে থাকবে)

করুনালংকার ভিক্ষুর ভিতরের প্রধান সমর্থক হলো চারিপুত্র চাকমা, রেভাতা ভিক্ষু, আশীষ বাবু, কেতু উস্তাদ, সুদীপ বাবু, ইন্দু বাবু, মানস বাবু, জার্নাল বাবু, দৈবারিক বাবু ও সন্তু লারমা এর বিছিন্ন জামাই প্রধীর তালুকদার। করুনালংকার ভিক্ষুর অন্যান্য শক্তিশালী বন্ধুদের সমর্থন আছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তার খোলা সাক্ষাত্কারে, করুনালংকার ভিক্ষু সন্তু লারমাকে গণতান্ত্রিকভাবে পদত্যাগ বা হিংসাত্মক বিদ্রোহ মোকাবেলা  করার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারটি শুনুন:

সাক্ষাৎকারটির ইংরেজী [English] ভার্সন পড়ুন এখানে

————————–

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.