সাজেক পর্যটনে উচ্ছেদ আতঙ্কে ১৭ ত্রিপুরা পরিবার

0
368
প্রতীকী ছবি

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ।। রাঙামাটি জেলার সাজেক পর্যটনের পাশে উত্তর রুইলুই পাড়ার ১৭টি ত্রিপুরা পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন যাপন করছে বলে জানা গেছে।

এ পাড়ায় কাউকে সেনাবাহিনী নতুন করে ঘর নির্মাণ কিংবা পুরাতন ঘর মেরামত করতে দিচ্ছে না। গ্রামের বেশ কয়েকজন এ প্রতিবেদকের কাছে উক্ত অভিযোগ করেছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে আমার ঘর মেরামত করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আর্মিরা এসে আমাকে বাধা দেয়।’

তাকে ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজনকে ঘর মেরামত অথবা নতুন করে ঘর নির্মাণে বাধা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা পরিবারগুলো হলো- ১। রাম জালাই ত্রিপুরা, কার্বারী (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জন), ২। পতেন্দ্র ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জন), ৩। মনসা ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭জন), ৪। তপন জয় ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭জন), ৫। মতি রঞ্জন ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২জন), ৬। সৃদর্শন ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬জন) ৭। সাগর ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জন) ৮। দলেন ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জন), ৯। ফুলেন ভূষণ ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৯জন), ১০। বিশ্ব ত্রিপুরা, শিক্ষক (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জন), ১১। মনি ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫জন), ১২। পূর্ণ রঞ্জন ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭জন), ১৩। ওয়াকিচা ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১১জন), ১৪। কান্তি ময় ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জন), ১৫। রবি কুমার ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫জন), ১৬।হৃদয় ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫জন) ও ১৭। হাফিং ত্রিপুরা (তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫জন)

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাঘাইছড়ি ‍উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা ও খাগড়াপুর নিবাসী এক এনজিও কর্মী ও মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাপলা ত্রিপুরাসহ ৬ ব্যক্তি এলাকার হেডম্যানের কাছ থেকে উক্ত ১৭ গ্রামবাসীর বসতভিটার জমি কিনে নেন। অর্থাৎ হেডম্যান সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের জমি সুদর্শন চাকমাদের কাছে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর ধারণা, উক্ত ১৭ পরিবারকে উচ্ছেদ করে সেখানে বান্দরবানের চিম্বুকে পাঁচতারা হোটেলের মতো কোন পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ করা হতে পারে। তবে চিম্বুকে যেভাবে সরাসরি সেনাবাহিনী জমি লিজ নিয়ে ম্রোদের উচ্ছেদে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং এতে করে দেশে বিদেশে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে, সাজেকে তারা সে পথে যাচ্ছে না।

এখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা গ্রামবাসীদের জমি বেদখল করে পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভিন্ন পথে দালালদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

এরা এখন জমির মালিকদের উচ্ছেদ করার জন্য জেএসএস (সন্তু)-এর এক ত্রিপুরা নেতাকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উক্ত ত্রিপুরা নেতা ফোনে তাদেরকে জমি ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন বলে একজন গ্রামবাসী এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, তবে নিরাপত্তাজনিত এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত জানাতে রাজী হননি। তাদের মধ্যে এখন ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, সে কারণে তারা মুখ খুলতে চাইছে না।

উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা উক্ত ১৭ পরিবারের অপর এক পরিবার প্রধান বলেন, ‘আমাদেরকে উচ্ছেদ করার জন্য এখন সেনাবাহিনী, জেএসএস ও জেএসএস সংস্কারবাদী সবাই একজোট হয়েছে। এই দুই দল নিজেদের মধ্যে মারামারি করলেও আমাদের জমি বেদখল করতে ঐক্যবদ্ধ। এভাবে যদি তারা জনগণের স্বার্থে বা অধিকার আদায়ের জন্য এক হতে পারতো তাহলে আমাদের কত মঙ্গল হতো।’

তিনি বলেন ‘এখন আমরা কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। আমরা গরীব, অসহায় বলে আমাদের পক্ষে কেউ নেই।’

তিনি উচ্ছেদ হওয়া থেকে বাঁচাতে সিএইচটি নিউজের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.