সেনাবাহিনীর ব্যাপক বাধার মুখে রামগড়ে বিজিবি কর্তৃক জমি জবরদখল ও বেআইনী সেটলার পুনর্বাসনের প্রতিবাদে অর্ধ দিবস সড়ক অবরোধ পালিত, আটক ৩

0
1
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
সিএইচটিনিউজ.কম
খাগড়াছড়ি জেলাধীন রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের পিলাভাঙা গ্রামে পুর্ণচন্দ্র চাকমার রেকর্ডিয় ও ভোগদখলীয় ১০ একর জমি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক জবরদখল ও বেআইনী সেটলার পুনর্বাসনের প্রতিবাদে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ডাকে আজ ৪ জুলাই বুধবার খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা, রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলাসহ খাগড়াছড়ি-ঢাকা ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে অর্ধ দিবস অবরোধ সর্বাত্মকভাবে পালিত হয়েছেসকাল ৬টা থেকে অবরোধ শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়অবরোধ চলাকালে সেনাবাহিনী পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের তিন কর্মীকে আটক করেছে।  
অবরোধ চলাকালে মাটিরাঙ্গা, রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলার আভ্যন্তরীণ সড়কে কোন যান চলাচল করেনি এবং খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কোন যান ছেড়ে যায়নি
সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করতে সেনাবাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালায়ভোর থেকে সেনারা মাটিরাঙ্গা, রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় ও জঙ্গলে অবস্থান নিয়ে পিকেটিংয়ে বাধা দেয় এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও ধরপাকড় করেসকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি দোকান থেকে সেনারা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের মাটিরাঙ্গা থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রবীর ত্রিপুরা, গুইমারা উচ্চ বিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক উৎপল কান্তি ত্রিপুরা ও মাটিরাঙ্গা ভোকেশনাল স্কুল কমিটির সদস্য কীর্তি বিকাশ ত্রিপুরাকে আটক করে।  আটকের পর সেনারা তাদেরকে গুইমারা থানায় হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ দখলদারদের পক্ষ নিয়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করে দেয়ার চক্রান্ত চালায়গতকাল ৩ জুলাই রাত ৭টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম এক সংবাদ সম্মেলন করে সড়ক অবরোধ কর্মসূচির দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবেবলে হুমকি দেয়
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমেন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি নতুন কুমার চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কণিকা দেওয়ান এক যুক্ত বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর বাধা প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানতারা বলেন, গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক বাধা প্রদান করে সরকার স্বৈরতান্ত্রিক আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেএ ধরণের আচরণ পরিহার করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানতাঁরা পিলাভাঙা গ্রামে জমি জবরদখল ও সেটলার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অচিরেই বন্ধ করা না হলে আবারো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন
নেতৃবৃন্দ অর্ধ দিবস সড়ক অবরোধ সফল করায় সকল যান মালিক সমিতি ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেনতাঁরা অবিলম্বে পূর্ণচন্দ্র চাকমার জমি বেদখলমুক্ত করা, পিলাভাঙা থেকে বিজিবি ক্যাম্প সরিয়ে নেয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল বন্ধ করা, পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি ও আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা অস্ত্রের জোর দেখিয়ে জনগণকে ভীত সন্ত্রস্ত করে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের ২৩৭ নং নাভাঙা মৌজাস্থ পিলাভাঙা গ্রামের বাসিন্দা পুর্ণচন্দ্র চাকমা, পিতা মৃত ময়ূরধ্বজ চাকমার রেকর্ডিয় ও ভোগদখলীয় জমি জোপরপূর্বক দখল করে এবং ৪৫টি সেটলার পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করেবিজিবি সদস্যরা জালিয়া পাড়া থেকে পিলাভাঙায় ক্যাম্প বসিয়ে সেটলারদের ঘর-বাড়ি নির্মাণ কাজে সহযোগিতা দিচ্ছেতাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বেআইনীভাবে বসতি গড়ে তোলার কাজ চলছে

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.