কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

হত্যা করে, বন্দুক দিয়ে ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করা যায় না–ফয়জুল হাকিম

0
2

ঢাকা : সরকার কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারীদের রক্ষার্থে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে, এসপি’র চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন শুনানীর নামে অহেতুক কালক্ষেপণ করছে বলে হিল উমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিএফ) ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকায় এক সমাবেশ থেকে এ অভিযোগ করেছে।

kalpana৯ জানুয়ারি (সোমবার) বিকাল ৩টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)’র উদ্যোগে এক যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে হিল উমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরুপা চাকমার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক মিল্টন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য রিপন চাকমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)’র ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়েল ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ।

সভা পরিচালনা করেন এইচডব্লিএফ-এর নেত্রী নীতিশোভা চাকমা।

বহুল আলোচিত কল্পনা অপহরণের দু’দশক পূর্ণ হলেও সরকার-রাষ্ট্র বিচার নিয়ে নানা টালবাহানা করে চলেছে অভিযোগ করে সভায় নিরুপা চাকমা বলেন, ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য শুনানীতে পেশের জন্য তৈরি এসপি’র চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনের শেষের দিকে “প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই” বলা হয়েছে যা মূখ্যত চিহ্নিত অপহরণকারীদের রক্ষার চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারকে অবশ্যেই কল্পনা অপহরণের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। চিহ্নিত অপহরণকারী লেঃ ফেরদৌস গংকে রক্ষা করার যে কোন চক্রান্ত হিল উইমেন্স ফেডারেশন মেনে নেবে না। যদি সরকার সুষ্ঠু বিচার করতে ব্যর্থ হয় এবং চিহ্নিত অপহরণকারীদের রক্ষার চেষ্টা করে তাহলে এর জের ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন অঘটন ঘটলে তার সমস্ত দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

kalpana1পাহাড়ে সেনা সেটলার দ্বারা প্রতিনিয়ত নারী ধর্ষণসহ নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে মন্তব্য করে নিরূপা চাকমা আরো বলেন, এসব ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে না, তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। কল্পনা চাকমাসহ অন্যান্য নারী নির্যাতনকারীদের শাস্তি না হওয়ার কারণে তনু, মিতু ও খাদিজাদের মত আরো লোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে চলেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম সভায় বলেন, কল্পনা চাকমার অপহরণকারী লে.ফেরদৌস গং’কে রক্ষার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে এই রাষ্ট্র চরম জাতি বিদ্বেষী। শুধু তাই নয়, এতে রাষ্ট্রের বড় ধরণের বেইনসাফি নীতিও প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কল্পনা অপহরণ আন্দোলন একটা ন্যায্য আন্দোলন। হত্যা করে, বন্দুক দিয়ে ন্যায্য আন্দোলনকে কখনো দমন করা যায় না। তিনি কল্পনা অপহরণকে গুম হিসেবেও মন্তব্য করেন।

ইউপিডিএফ সংগঠক মিল্টন চাকমা বলেন, বাংলাদেশে জাতিগত নিপীড়নের ধারাবাহিক ঘটনা হল কল্পনা অপহরণের ঘটনা। কল্পনা অপহরণের বিচার নিয়ে নানা চক্রান্ত চলছে, ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চলছে । সেনাবাহিনী এ ঘটনাকে প্রেম ঘটিত ব্যাপার বলে ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা করেছে। ভূইফোর মানবধিকার সংগঠন দিয়ে ভারতে গন্ধামারায় খোঁজ পেয়েছে এমন উদ্ভট গল্প তৈরি করা হয়েছে। অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের জনগণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস, সালেহ আহমদ, নরুল হকসহ দোষীদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবি জানান। এছাড়া সমাবেশ থেকে তনু ধর্ষণ-হত্যা, মিতু হত্যাকারীদের এবং খাদিজার ওপর হামলাকারীর শাস্তি দাবি জানান। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

________

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.